করোনার পর কী হবে, সেটাও ভাবছে অস্ট্রেলিয়া

করোনাভাইরাসের সময়ে ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ফাইল ছবিকরোনাভাইরাসের সময়টায় ক্রিকেটারদের সময় কাটাতে হচ্ছে ঘরে বসে। পেশাদার ক্রিকেটাররা যেখানে সারা বছর খেলার মধ্যে ব্যস্ত থাকতে অভ্যস্ত, এখন তাদের হুট করেই থাকতে হচ্ছে ঘর বন্দী। এই অলস সময়টা ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলার শঙ্কাও আছে।

তাই করোনার সময়টা ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শুধু ক্রিকেটার নয়, ক্রিকেট দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের দিকেও নজর থাকবে ক্রিকেট বোর্ডের। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার জানিয়েছেন, ‘গতকাল টেলিকনফারেন্সে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম, বিশেষ করে আমাদের স্টাফ বা খেলোয়াড় যারা মূলত একা বাসায় আছে। তারা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ছেলে ও মেয়েদের দিকে নজর রাখতে হবে আমাদের। আশা করি, পরিবারের পাশে থাকায় এবং খেলার চাপ থেকে দূরে থাকার একটা প্রভাব তাদের ওপর পড়বে (ইতিবাচক)। তবে আমরা সতর্ক আছি।’

কোচ নিজেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের খোঁজ খবর রাখছেন। কে কীভাবে সময় কাটাচ্ছে সবই কোচিং স্টাফের সদস্যরা জানতে পারছে। ল্যাঙ্গার বলছিলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি ১৫টি টেলিকনফারেন্স করেছি। দেখেছি কাজটা ঠিকঠাক মতোই হচ্ছে। সবার সঙ্গেই সবার যোগাযোগ হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির এটাই সুবিধা।’

মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত না হয়ে ক্রিকেটারদের পরিবারের সঙ্গ উপভোগ করতে বলছেন ল্যাঙ্গার, ‘অনেকেই ১২ মাসে ১০ মাস পরিবারের বাইরে থাকে। এটা আমার ও তাদের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। আমি চাইলেই এখন দাঁড়ি বড় করতে পারি। চাইলে কোনো জুতো না পরেই ঘুরতে পারছি, বাগানে গিয়ে কাজ করতে পারছি, ঘর থেকে কাজ করতে পারছি।’

তবে করোনা পরবর্তী সময়ের জন্যও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের প্রস্তুত থাকার বার্তাও পাওয়া গেছে কোচের কণ্ঠে। আগামী গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলতে ভারত সফর করবে অস্ট্রেলিয়া। কোচ সে জন্যই হয়তো বলে রাখলেন, ‘আমরা নিজেদের বারবার প্রস্তুত থাকতে বলে থাকি। এটা খেলোয়াড় ও কোচ, সবার জন্যই। পরের সুযোগের জন্য যেন আমরা প্রস্তুতি থাকি। এবারও তাই বলছি।’

১০০ কোটির ক্ষতিও যখন অর্থহীন

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মালিক নীতা আম্বানি। আইপিএল না হলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁকে। ফাইল ছবিভারতের সংবাদমাধ্যম ‌ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর আইপিএল বাতিল হতে পারে। ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোও আইপিএল বাতিলের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এমনকি আশাবাদী নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিসিআই)।

আইপিএলে এ বছরের সংস্করণের ভবিষ্যৎ নিয়ে মঙ্গলবার টেলিকনফারেন্সে বসেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলো। আপাতত এ টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই, জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অফিশিয়াল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, আইপিএল এ বছর নাও হতে পারে। এমন হওয়ার শঙ্কাই বেশি।’ আইপিএল বাতিল হলে ২০০০ কোটি রুপিরও বেশি রাজস্ব হারাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ১০০ কোটি রুপি করে হারাবে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না তারা।

সেই অফিশিয়াল এ নিয়ে বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না। (বাতিল হলে) টাকা কোথাও যাবে না। তাই ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই।’ আইপিএলের বিধিতে দৈব-দুর্ঘটনায় বাতিল হওয়া নিয়ে নাকি কোনো ধারা নেই, এমনটি উল্লেখ করে একমত হয়েছেন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের প্রধান নির্বাহী।
বিসিসিআই এখন আপাতত আইপিএল নিয়ে ভাবছে না। বিসিসিআইয়ের এক বড় কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভবিষ্যৎ নিশ্চিত না। জানি না ভ্রমণে বাধ্যবাধকতা বা ভিসা নিষেধাজ্ঞা কবে উঠবে। কেউ জানে না সবকিছু কবে ঠিক হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এসব অর্থহীন (আইপিএল নিয়ে পরিকল্পনা)।’

বিসিসিআইয়ের সেই কর্মকর্তা আরও ব্যাখ্যাও করলেন, ‘ধরুন এখানে (ভারত) সব ঠিক হয়ে গেল। কিন্তু অন্য কোথাও ঠিক হলো না…আমরা ঠিক নিশ্চিত নই। জাপান, অলিম্পিকের আয়োজক দেশ, ওটাও পিছিয়ে গেছে। এই মহামারি খেলা কিংবা আইপিএলের চেয়েও অনেক বড়।’

মহামারি করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ১৬৮টি দেশ। প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারের মতো মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। প্রায় গোটা বিশ্বেই সব ধরনের খেলাধুলা থেমে গেছে।

আইপিএল মাঠে গড়াতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত অপেক্ষার সুযোগ নেই। জুনের প্রথম সপ্তাহের পর এ টুর্নামেন্টের জন্য আর ফাঁকা সূচি নেই। এশিয়া কাপে অংশ না নিয়ে সেপ্টেম্বরে আইপিএল শুরু করার বিষয়েও খুব আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারলেন না বিসিসিআই অফিশিয়াল, ‘এ মুহূর্তে কোনো কিছু ভাবার সুযোগ নেই। এটা (করোনা মহামারি) থামলেই কেবল চেষ্টা করা যাবে।’

নিজের মন্থর ব্যাটিংয়ে দলের ভালোই দেখছেন তামিম

তামিম ইকবাল।

ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট নিয়ে মুখ খুললেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ধৈর্য নিয়ে খেলার সুফল কী সেটিও বললেন।

‘এমন একটা ম্যাচ দেখান, যেই ম্যাচে আমার স্ট্রাইক রেটের কারণে দল হেরেছে’—অভিযোগের সুরেই বললেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

আজ প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলার সময় উঠে এলো তাঁর স্ট্রাইক রেট প্রসঙ্গ। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে কত কিছুই না ঘটে গেল। ওপেনার তামিমের স্ট্রাইক রেটও ছিল তেমনই বড় ঘটনা। মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য গত বিশ্বকাপ থেকেই তাঁর সমালোচনা। গত বিপিএল ও পাকিস্তান সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাই। এরপর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করার পর স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার আগুনে পানি ঢালেন তামিম। দুটি সেঞ্চুরিই করেছেন ১০০ ছাড়ানো স্ট্রাইক রেটে।

কিন্তু এর মধ্যে স্ট্রাইক রেটের সমালোচনা নিয়ে একবারও মুখ খোলেননি তামিম। আজ প্রথম আলোকে স্ট্রাইক রেট নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তামিম। গত বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে কেন উইলিয়ামসন ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছিল। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ৮২। বিশ্বকাপে ৮২ স্ট্রাইক রেটেই কিছু ইনিংস খেলেছে যেগুলোর কারণে তাঁর দল জিতেছে।’

ক্রিকেট বিশ্লেষকের উদ্দেশ্যেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি, ‘যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করি, গত পাঁচ-ছয় বছরে আমার স্ট্রাইক রেটের কারণে দল হেরেছে এমন একটা ম্যাচ দেখান। আমি ১৫-১৬টি ম্যাচ দেখাতে পারব যেখানে আমি যেভাবে ব্যাট করেছি, বাংলাদেশ জিতেছে। আমরা সব সময় একটা ধারায় যাই। দুই দিন আগে ছিল ধৈর্য নেই। এখন হলো এত বেশি ধৈর্য কেন। আগে ৩০ রানে ৩ উইকেট, ৪০ রানে ৩ উইকেট, খুবই স্বাভাবিক চিত্র ছিল। গত পাঁচ বছরে কয়বার এমন হয়েছে। খুব বেশি না। এর কারণে ইতিবাচক দিক কী কী হচ্ছে সেটাও চিন্তা করবেন। আপনি যখন বিশ্লেষণ করবেন, পাল্লার কোন দিকটা ভারী দেখবেন, আমি খারাপটা তো দেখি না।’

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তামিমের ওয়ানডে স্ট্রাইক রেট ছিল ৮০’র আশপাশে। গত পাঁচ বছরেও স্ট্রাইক রেটে আমূল পরিবর্তন হয়নি, প্রায় ৮০ স্ট্রাইক রেটেই খেলেছেন। অথচ ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন গত পাঁচ বছরই। শট নির্বাচন ভালো হয়েছে। ফিটনেসে পরিবর্তন এসেছে। লম্বা ইনিংস খেলার সামর্থ্য বেড়েছে। ক্যারিয়ারের প্রথম ৭ বছরে ওয়ানডেতে ৭৭.৫৫ স্ট্রাইক রেট ও ২৯.৮৫ গড়ে করেছেন ৩৯৭১ রান। সেঞ্চুরি মাত্র ৪টি। ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তামিম রান করেছেন ৩২৩১। স্ট্রাইক রেট ৮০.১১ ও গড় ৫১.২৮। সেঞ্চুরি ৯টি।

ওয়ানডেতে বড় রান পেতে ওপরের সারির তিন ব্যাটসম্যানের যে কোণ একজনের অন্তত ৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে হয়। বাংলাদেশের হয়ে সেই দায়িত্ব পালন করছেন তামিম, ‘আমাদের টিম মিটিংয়ে কথা হয়, ওপরের তিন ব্যাটসম্যানের একজনকে ৪০ ওভার পর্যন্ত খেলতে হবে। এখন সবার যদি ১১০ স্ট্রাইক রেট থাকে তাহলে তো রান হবে ৫১০। এটা তো হয় না।’

তবে স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান তামিম। ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৭ হাজার রান করার পরও নিজেকে ক্রিকেটের ছাত্র হিসেবে দেখেন তামিম। ব্যাটসম্যান হিসেবে যে তাঁর এখনো অনেক শেখার বাকি। স্ট্রাইক রেট আরও বাড়িয়ে নেওয়া সেই সিলেবাসেরই অংশ, ‘আর আমি সব সময় উন্নতির পেছনে ছুটেছি। আমি যেদিন মনে করব আমি সব জেনে গেছি, সব পেয়ে গেছি। তাহলে ওই দিনই আমি শেষ। ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার অনেক কিছু শেখার আছে। আমি সব বুঝে গেলে তো বিরাট কোহলির পর্যায়ে থাকতাম। আমি চার-পাঁচ বছরে সাফল্যের স্বাদ পেতে শুরু করেছি। কিন্তু যা অর্জন করতে চেয়েছি তা পারিনি।’

* অধিনায়কত্ব নিয়ে তামিম ইকবালের সাক্ষাৎকার পড়ুন কালকের ছাপা সংস্করণে।

করোনা থেকে বাঁচতে ‘পালিয়েছেন’ নেইমার

প্যারিস ছেড়ে ব্রাজিলে উড়াল দিয়েছেন নেইমার। ছবি: রয়টার্সফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ২০০ জনের কাছাকাছি। আক্রান্ত প্রায় আট হাজার। সে তুলনায় ব্রাজিলে করোনাভাইরাস এখনো তেমন ছোবল তুলতে পারেনি। এখন পর্যন্ত সেখানে আক্রান্ত পৌনে চার শ-র মতো মানুষ, মারা গেছেন একজন। প্রাণঘাতী করোনার ফণা তুলে ছড়িয়ে পড়ার এই সময়ে ফ্রান্সের চেয়ে ব্রাজিলই তো তুলনামূলক নিরাপদ!

নেইমার সে হিসেবে একেবারে ঠিক কাজটিই করেছেন। করোনার দাপটে ফরাসি লিগ বন্ধ হয়ে আছে বেশ কদিন হলো, কবে আবার শুরু হবে তা শুধু ভবিষ্যৎই জানে। একে তো খেলা নেই, তারওপর গৃহবন্দী হয়ে কাটছে প্যারিসিয়ানদের দিনগুলো। এমন শঙ্কার সময়ে আর প্যারিসে থেকে কী করবেন, সোমবার নেইমার উড়াল দিয়েছেন ব্রাজিলের উদ্দেশে। ফরাসি দৈনিক লা পারিসিয়েনকে উদ্ধৃত করে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা আজ সে খবর জানিয়ে লিখেছে, তাঁর অন্য সতীর্থরা যখন প্যারিসেই দিন কাটাচ্ছেন, তখন নেইমার ‘পালিয়েছেন’, উড়াল দিয়েছেন ব্রাজিলের উদ্দেশে।

বিশ্বজুড়ে ভয়ের চাদর বিছিয়ে রাখা করোনার আক্রমণের দিনগুলো পরিবারের সঙ্গে ব্রাজিলেই কাটাবেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে ব্রাজিলে শুধু তিনি একাই যাননি। মার্কা জানাচ্ছে, পরশু তাঁর পথ ধরে ব্রাজিলে গেছেন তাঁর ক্লাব ও জাতীয় দল সতীর্থ থিয়াগো সিলভাও। তবে ভেরাত্তি-হেরেরা-সারাবিয়ার মতো পিএসজিতে তাঁর অন্য সতীর্থরা আটকে আছেন প্যারিসেই।

পিএসজির অবশ্য এখানে কিছু করার নেই। নেইমারকে প্যারিসে থাকতে বাধ্য করতে পারত না ক্লাবটি, সেই এখতিয়ার তাদের নেই। তবে প্যারিসে যাঁরা আছে, তাঁদের করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার, প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে বাড়ির দরজার বাইরে রাখার সব সতর্কতামূলক পদ্ধতি বলে দিয়েছে ক্লাব।

আবাহনী প্রমাণ করতে চায় ‘ওটা অঘটন ছিল’

প্রিমিয়ার লিগে আজ আবাহনীর মুখোমুখি হচ্ছে মোহামেডান। ফাইল ছবি

দর্শকপ্রিয় দুই ক্লাবের দ্বৈরথের উত্তাপ উবে গেছে প্রায় এক যুগ আগেই। স্টেডিয়ামপাড়া দূরে থাক, দুই ক্লাবে চত্বরেও পাওয়া যায় না লড়াইয়ের কোনো আমেজ। এটা যেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই। তবু নাম দুটি যখন আবাহনী-মোহামেডান, ম্যাচের আবেদন কিছুটা হলেও থেকে যায়

সময়টা এমন-ই যে ফুটবলপ্রেমীদের জানাতে হচ্ছে, আজ আবাহনী-মোহামেডান ফুটবল ম্যাচ আছে। প্রিমিয়ার লিগে প্রথম পর্বে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। তবে বর্তমান সময়ে আবাহনী-মোহামেডানের সঙ্গে ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ কথাটি একটু বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে।

দর্শকপ্রিয় দুই ক্লাবের দ্বৈরথের উত্তাপ উবে গেছে প্রায় এক যুগ আগেই। স্টেডিয়ামপাড়া দূরে থাক, দুই ক্লাবে চত্বরেও পাওয়া যায় না লড়াইয়ের কোনো আমেজ। এটা যেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই। তবু নাম দুটি যখন আবাহনী-মোহামেডান, ম্যাচের আবেদন কিছুটা হলেও থেকে যায়।

সাম্প্রতিক বছরে দুটি দল মুখোমুখি হওয়ার মানেই ধরে নেওয়া হয়, জয় পেতে যাচ্ছে আবাহনী। এবার অবশ্য তেমন কিছু শোনা যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেনের হাত ধরে গত মৌসুমের দ্বিতীয় পর্ব থেকে বদলে গিয়েছে মোহামেডান। গত লিগের প্রথম পর্বে আবাহনীর কাছে ৩-০ গোলে উড়ে গেলেও দ্বিতীয় পর্বে মোহামেডান ৪-০ গোলে জিতে উপহার দেয় বিস্ময়।

সেই শন লেনই বর্তমান দলটির মূল শক্তি। তরুণদের নিয়ে ৩ ম্যাচ শেষে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট সাদা কালোদের। জাতীয় দলের সাত খেলোয়াড় নিয়ে সমান সংখ্যক ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৭। সাইফ স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে হারলেও অন্য দুই ম্যাচ আরামবাগ ও শেখ রাসেলের বিপক্ষে জিতেছে মোহামেডান। আর ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ড্র করা আবাহনীর দুই জয় বাংলাদেশ পুলিশ ও রহমতগঞ্জের বিপক্ষে।

স্পষ্টত খাতা কলমের হিসেবে শক্তিতে অনেক এগিয়ে আকাশি-নীলরা। শিরোপা প্রত্যাশী হওয়ায় ম্যাচ জয়ের চাপ মূলত তাদের ওপরই। এ ছাড়া শেষ ম্যাচে ৪-০ গোলের হারটা এখনো পোড়াচ্ছে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোসকে , ‘এই ম্যাচের ইতিহাস আমি জানি। ডার্বি ম্যাচে সমর্থকেরা জয়ই দেখতে চায়। এ ছাড়া এই ম্যাচটি আমার জন্য বিশেষ গুরুত্বের । কারণ শেষ ম্যাচে আমরা ৪-০ গোলে হেরেছিলাম। আজ আমাদের প্রমাণ করতে হবে ওটা ছিল একটা অঘটনের মতো।’চোটের জন্য ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশাকে পাচ্ছেন না লেমোস।

পানসে হয়ে যাওয়া আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে যার জন্য প্রাণ ফিরে এসেছে, তিনি মোহামেডান কোচ লেন। স্বাভাবিকভাবে আজও সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস করে স্টেডিয়াম ছাড়ুক, সেটাই তাঁর প্রত্যাশা,‘ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে সমর্থকেরা হার মানতে পারেন না। শেষ ম্যাচে তারা যেভাবে উচ্ছ্বাস করেছে, আজও তাদের সেই উচ্ছ্বাস উপহার দিতে চাই। ’

মোহামেডান হয়তো আজ পাচ্ছে না তাদের নিয়মিত গোলরক্ষক মোহাম্মদ সুজনকে। চোটের জন্য তাঁর খেলার সুযোগ কম বলে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব। সুজনের জায়গায় পোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেলকে।

বদলে যাওয়া মোহামেডানের জয়

জয়ের পর মোহামেডানের উল্লাস। ছবি: প্রথম আলো

শেখ রাসেলকে তাদের হোম ভেন্যু সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড।

সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে শেখ রাসেলের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই হেরেছিল মোহামেডান। প্রথম পর্বে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় পর্বেও ৪-২ গোলের ব্যবধান হার। কিন্তু এবার বদলে যাওয়া এক দল মোহামেডান। আজ শেখ রাসেলকে তাদের ঘরের মাঠ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামেই ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে সাদা-কালোরা।

বেশ নাটকীয় এক ম্যাচ দেখা গেল আজ। প্রথমেই মোহামেডানের এগিয়ে যাওয়া। শেখ রাসেলের সমতায় ফেরাও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই। আর একদম শেষ মুহূর্তে গোল করে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত করা। মোহামেডানের হয়ে একটি করে গোল করেছেন সুলেমান দিয়াবাতে ও শাহেদ হোসেন। শেখ রাসেলের গোলটি তাদের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার পেদ্রো হেনরিকের।

৬ মিনিটেই মালিয়ান স্ট্রাইকার সুলেমানের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় মোহামেডান। রক্ষণভাগ থেকে আসা এক এরিয়াল থ্রুতে গতির ঝলকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে দারুণভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বাকি কাজটি করেছেন মালির স্ট্রাইকার সুলেমান।

৪২ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার পেদ্রো হেনরিকের গোলে সমতায় ফেরে শেখ রাসেল। একটি ফ্রি কিক থেকে বল পেয়েছিলেন আলিশার আজিজব। উজবেক এই স্ট্রাইকারের পাস থেকে জটলার মধ্যে থেকে শট নিয়ে ১-১ করেছেন পেদ্রো।

১-১ সমতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল ম্যাচটি। ৮৬ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে জয় সূচক গোলটি করেন স্থানীয় মিডফিল্ডার শাহেদ হোসেন। এই গোলে শেখ রাসেল ডিফেন্ডার খালেকুজ্জমান সবুজের দায় আছে কিছুটা। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে শাহেদের পায়ে তুলে দেন তিনি। সেটা দারুণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভলিতে জালে জড়িয়ে দিয়েছেন শাহেদ।

এই জয়ে ৩ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে মোহামেডান। ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশম স্থানে শেখ রাসেল।

Mushfiq dedicates Test double ton to son

Bangladesh`s Mushfiqur Rahim reacts after scoring a double century (200 runs) during the third day of a Test cricket match between Bangladesh and Zimbabwe at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on 24 February, 2020. Photo: AFPBangladesh stalwart Mushfiqur Rahim dedicated his 3rd Test double-century to his son Shahroj Mayan on Monday, reports UNB.

Mushifqur hammered an unconquered 203 runs against touring Zimbabwe before Bangladesh captain Mominul Haque declared innings at 560 for six, the Bangladesh’s highest Test total at home. Riding on the superb batting effort by Mushfiqur enabling Bangladesh to take 295 runs lead.

“I am dedicating this double ton to my son,” Mushfiqur told the media at the end of day three of the one-off Test at Sher-e-Bangla National Stadium in Mirpur, on Monday, putting Bangladesh on the driving seat.

“My son loves dragons. He likes this celebration. So I celebrated this way so that he loves it,” Mushfiqur explained why he celebrated in an unusual way.

The 32-year-old right-handed batsman hit his previous double-ton against the same opponent two years back at the same ground. In between these two double-tons, Mushfiqur played 10 Test innings but failed to score any century. So this century was like a relief for the batsman. However, Mushfiqur denied this idea.

“There was no pressure on me. I scored 74 in the last Test innings, So there is no question of relief or anything like that. I always try to contribute for the team as much as possible,” Mushfiqur pointed out.

According to Mushfiqur, it was easy to bat in the wicket of the Dhaka Test. He said he was more comfortable while playing this innings than the previous two double-centuries.

At the end of day three of the ongoing Test, Zimbabwe are trailing by 286 runs with eight wickets in hand. Off-spinner Nayeem Hasan bagged two wickets in the first over of Zimbabwe’s second innings, which cemented Bangladesh’s position in the game.

“What we have scored in our only innings should be enough to seal the game. It might have helped to scored more, but still, we are happy with our first innings,” Mushfiqur further told the media.

Ervine ton keeps Zimbabwe on par with Bangladesh

Bangladesh`s Nayeem Hasan (R) celebrates with teammates after the dismissal of the Zimbabwe`s Sikandar Raza (unseen) during the first day of the first Test cricket match between Bangladesh and Zimbabwe at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on 22 February, 2020. Photo: AFPSkipper Craig Ervine scored a dogged century as Zimbabwe shared the honours with Bangladesh on the opening day of the one-off Test in Dhaka on Saturday.

Ervine hit 107 off 227 balls — his third century in Tests — as the visitors reached 228-6 at stumps after opting to bat first in what is the 100th international match between two teams.

Off-spinner Nayeem Hasan bowled Ervine, who struck 13 fours, shortly before the stumps before finishing with 4-68, the best return for the home side on the opening day.

Nayeem helped Bangladesh restore balance in the contest with two wickets each in the final two sessions after Zimbabwe made a cautious start.

Pace bowler Abu Jayed struck early to remove opener Kevin Kasuza for two as Nayeem took a catch at gully after first run from the bat in Zimbabwe’s innings came in the seventh over.

But other opener Prince Masvaure — who made 64 off 152 balls with nine fours — shared a 111-run with Ervine for the second wicket to put Zimbabwe in control.

Zimbabwe`s captain Craig Ervine reacts after scoring a century (100 runs) during the first day of the first Test cricket match between Bangladesh and Zimbabwe at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on 22 February, 2020. Photo: AFPNayeem removed Masvaure with a sharp return catch shortly after the batsman was dropped by Najmul Hossain at slip on 59 runs.

Brendan Taylor, who scored a century in both innings in his previous Test in Mirpur in 2018, soon followed Masvaure as Nayeem bowled him for 10.

The experienced right-hander attempted a reverse sweep but could only connect the ball with his gloves before it smashed onto his stumps.

Ervine and Sikandar Raza added 40 runs for the fourth wicket, before Nayeem removed Raza in the final session of the day.

Jayed trapped Timcyen Maruma leg before for seven for his second wicket after the batsman was reprieved by a TV umpire on one off Taijul Islam.

Wicketkeeper-batsman Regis Chakabva was batting on nine alongside Donald Tiripano, not out zero, when stumps were drawn at the Sher-e-Bangla National Stadium.

Mushfiqur Rahim returned to the Bangladesh lineup after missing out on their previous Test against Pakistan.

Zimbabwe handed Charlton Tshuma his Test debut.

Bangladesh have lost their last six Test matches — five of them by an innings or more — but they have also beaten Zimbabwe five times in their last six encounters.

শেষ বিকেলে ‘গলার কাঁটা’ তুলল বাংলাদেশ

সেঞ্চুরি করা আরভিনকে শেষ বিকেলে তুলে নেওয়ার উল্লাস বাংলাদেশ দলের। ছবি: শামসুল হক

৬ উইকেটে ২২৮ রান তুলে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষ করল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন স্পিনার নাঈম হাসান

মিরপুর টেস্টে প্রথম দিন কেমন কাটল বাংলাদেশের?

ভালো-মন্দ মিলিয়ে। নাঈম হাসানের বলে তিনটি ক্যাচ ফসকানোর আক্ষেপ। ক্রেগ আরভিনের সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক অপরাজিত থেকে দিন শেষ করলে হতাশাটা বেশি হতো। ‘গলার কাঁটা’ হয়ে থাকা আরভিনকে দারুণ এক ডেলিভারিতে নাঈম হাসান তুলে নেন শেষ বিকেলে। এতে অন্তত দেরিতে হলেও কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডও বলছে, প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে অন্তত খুব বাজে বলার উপায় নেই। ৬ উইকেটে ২২৮ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে।

রেজিস চাকাভা এক প্রান্ত ধরে রাখায় কিছুটা অস্বস্তি থাকেই। সাতে নামা চাকাভা একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই। অন্য প্রান্তে ব্যাটিং অর্ডারের ‘লেজ’ বেরিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের। পেসার ডোনাল্ড তিরিপানো আছেন অন্য প্রান্তে। দিনের সবচেয়ে সফল বোলার নাঈম হাসান। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের সবুজাভ উইকেটে বাঁক পেয়েছেন এ অফ স্পিনার। ৬৮ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ৫১ রানে ২ উইকেট আবু জায়েদের।

প্রথম সেশনে শুধু কেভিন কাসুজাকে তুলে নিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ওপেনারকে নাঈমের ক্যাচে পরিণত করেন আবু জায়েদ। উইকেটে থাকা হালকা ঘাসের সুবিধাটা সকাল সকালই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ইবাতদ হোসেন-আবু জায়েদ। প্রথম সেশনে উইকেট বেশি না পড়লেও জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে রেখেছিলেন দুই পেসার। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করেন দুজন।

প্রথম সেশনে ১ উইকেটে ৮০ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় সেশনেও বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন নাঈম। তাঁর বলে তিনটি ক্যাচ দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার প্রিন্স মাসভোরে। নাঈম নিজেও তাঁর একটি ক্যাচ ফসকেছেন। শেষ পর্যন্ত এই নাঈমই ৬৪ রান করা মাসভোরেকে ফিরিয়েছেন। পরের ওভারেই তাঁকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্টাম্পে বল টেনে এনেছেন ব্রেন্ডন টেলর (১০)।

দ্বিতীয় উইকেটে মাসভোরের সঙ্গে ১১১ রানের জুটি গড়া আরভিন খেলেছেন সাহসী ক্রিকেট। টেস্টে তাঁর এতটা ঝুঁকি নেওয়া প্রশ্ন তোলার মতো। তবে বারবার তাঁর রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা বাংলাদেশের স্পিনারদের জেঁকে বসতে দেয়নি। ২২৭ বলে ১০৭ রান করা আরভিন নাঈমের শিকার হন দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগের ওভারে। ভেতরে ঢোকানো বলে এ বাঁহাতিকে বোল্ড করেন নাঈম।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ২টি উইকেট পেয়েছে নাঈমের কল্যাণে। শেষ সেশনে এসে মূলত বেশি সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ। তিন সেশন বিচার করলে উইকেট পড়ার ক্রম দাঁড়ায়, এক, দুই, তিন! মানে প্রথম সেশনে ১ উইকেট, দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেট আর তৃতীয় সেশনে এসে পড়েছে ৩ উইকেট। এই ৩ উইকেটের মধ্যে একটি আবু জায়েদের, বাকি দুটি নাঈমের। প্রথম সেশনের তুলনায় শেষ দুই সেশনে রান উঠেছে কম—৮০, ৭০ ও ৭৮।

নাঈম উইকেটে বাঁক ও বাউন্স পাওয়ায় তাঁকে দিয়েই আজ বেশি বল করিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। ৩৬ ওভার বল করেন তিনি। গড়ে ১.৮৮ রান দেওয়াই বলে দেয় কতটা ভালো বল করেছেন এ স্পিনার। ২১ ওভার বল করে উইকেটশূন্য তাইজুল ইসলাম। ১৭ ওভার বল করেছেন ইবাদত, আবু জায়েদ ১৬ ওভার। চার ‘বিশেষজ্ঞ’ বোলার নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ সারা দিন এ চারজন দিয়েই বল করিয়েছে। কোনো ‘পার্ট-টাইম’ বোলারকে দেখা যায়নি।

Need win against Zimbabwe to regain confidence: Taijul

Taijul Islam. Prothom Alo File PhotoBangladesh’s leading spinner in the current Test set-up Taijul Islam believes a win in the upcoming series against Zimbabwe will help them get back their confidence.

Bangladesh lost all of the six Tests that they have played since the last victory against West Indies in 2018.

In the ongoing tour, Zimbabwe will face the hosts in just one Test beginning on February 22 at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium. After that, both the teams will lock horns in three-match ODI and two-match T20I series.

“It’s good that we’re going to play at home this time. Playing in the home ground gives you a good feeling always. I believe we’re able to make a good result against Zimbabwe at home,” Taijul told the media during the first-day practice ahead of the series at Sher-e-Bangla National Cricket Stadium on Tuesday.

“We need a win — it might be against Zimbabwe or any other team. If we can beat Zimbabwe in the one-off Test, it’ll help us get the confidence back in the team,” he added.

Taijul played five Tests against Zimbabwe and took 35 wickets featuring career-best bowling figure of eight wickets conceding 39 runs. However, Taijul reckons not just against Zimbabwe, he tries to deliver well against any team in the world.

“It’s not good to hear that I just take wickets against Zimbabwe. You have to bowl in the right areas to get wickets. It’s not possible to scalp wickets without that,” he added.

‘সরি’ বললেন আকবর আলী

উদ্‌যাপনে লাগাম দিতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আকবর আলী। ছবি: আইসিসি

ম্যাচ শেষে উদ্‌যাপনের সময় আবেগে লাগাম দিতে পারেননি বাংলাদেশ ও ভারতের  অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটাররা। সে ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ যুবদলের অধিনায়ক আকবর আলী।

কাল পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়টি লিখেছেন আকবর আলীরা। ফেবারিট ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট জিতেছে বাংলাদেশের যুবারা। ম্যাচ শেষে শিরোপা উদ্‌যাপন করতে গিয়ে আবেগে লাগাম দিতে পারেননি বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ অনেক খেলোয়াড়। যে ঘটনায় ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ও ফাইনালে জয়ের নায়ক আকবর আলী।

রকিবুল হাসান জয়সূচক শেষ রানটি নেওয়ার পর উল্লাসে মাতেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। এ সময়ে ভারতীয়দের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, এমনকি সামান্য ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে। পুরো ঘটনা নিয়েই আজ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা আইসিসির ম্যাচ রেফারি গ্রায়েম ল্যাব্রয়ের।

ফাইনালে ঠান্ডা মাথায় ৪৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলা আকবর বললেন, যা হয়েছে তা দুঃখজনক, ‘যা হয়েছে, তা হওয়া উচিত ছিল না। আমি জানি না ঠিক কী হয়েছে। আমি জিজ্ঞেসও করিনি কী হচ্ছে। তবে এ তো জানাই, ফাইনালে আবেগ-টাবেগ একটু বেশি থাকে। ছেলেরাও একটু বেশি উত্তেজিত থাকে, আবেগ ধরে রাখতে পারে না। তবে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে এমনটা হওয়া উচিত নয়। যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো আচরণে আমাদের উচিত প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখানো। খেলাটার প্রতিও শ্রদ্ধা থাকা দরকার।’

ক্রিকেট যে ভদ্রলোকের খেলা, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আকবর, ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা হিসেবেই পরিচিত। তাই আমি বলছি, আমার দলের পক্ষ থেকেই বলছি, আমি দুঃখিত।’

ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক প্রিয়ম গার্গ পুরো ঘটনার জন্য বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরই দোষ দিয়েছেন, ‘আমরা স্বাভাবিকই ছিলাম। আপনি কোনো দিন জিতবেন, কোনো দিন হারবেন—এটাই তো খেলার স্বাভাবিক নিয়ম। তবে ওঁদের প্রতিক্রিয়া কদর্য ছিল। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। যা–ই হোক, এটি বড় কিছু না।’

তবে ভারতীয় দলটির ম্যানেজার অনিল প্যাটেল জানিয়েছেন, ম্যাচ রেফারি ল্যাব্রয় এসে নাকি তাঁদের জানিয়েছেন, আইসিসি পুরো ঘটনার তদন্ত করছে।