১৮৭-তে শেষ হওয়া বছরকেই সফল বলছেন বাফুফে সভাপতি


বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন (ডানে)। ছবি: বাফুফে

১৮৭ নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই বছর ভুটানের কাছে দুবার হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবু ২০১৯ সালকে সফল মনে করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

২০১৯ সালটা কেমন গেল দেশের ফুটবলের? কোনো তর্ক-বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। র‌্যাঙ্কিংকে ফুটবলের চূড়ান্ত মানদণ্ড ধরা যায় না, তবু একটি দেশের নিকট অতীতের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি চেহারা ফুটে ওঠে তাতে। সে হিসাবে ১৮৭ র‌্যাঙ্কিং নিয়ে বছর শেষ করছে বাংলাদেশ, এতেই বোঝা যাচ্ছে দেশের ফুটবলের অবস্থা। তবু ২০১৯ সালকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জন্য সফল বলছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

বছর শেষের টুর্নামেন্ট দিয়েই শুরু করা যাক। চলতি মাসে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ভারতবিহীন দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে পাঁচ দলের টুর্নামেন্টে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ। ৪ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের একমাত্র জয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভুটানের কাছে হারের স্বাদও মিলেছে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মোড়কে প্রায় মূল জাতীয় দল খেলেছে গেমসে। তবু এমন পারফরম্যান্সে দলের করুণ ছবিই ফুটে উঠেছে কাঠমান্ডুতে। এই টুর্নামেন্টের আগে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্বেও প্রথমবারের মতো ভুটানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও ২০১৯ সালকে সফল বলছেন বাফুফে সভাপতি, ‘২০১৯ সালকে আমি মনে করি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জন্য একটি সফল বছর।’

২০১৯ সালে মোট ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচে ৪ জয়, ২ ড্র, ৩ হার। এর মধ্যে দুটি জয় এসেছে ঘরের মাঠে জাতীয় দলের মোড়কে খেলতে আসা ভুটান যুব দলের বিপক্ষে। ফুটবলের সবচেয়ে সফলতা যেটিকে ধরা হচ্ছে, সেটি বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন। কিন্তু এটি মন্দের ভালো ছাড়া কিছু নয়। শেষ রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রাক্‌-বাছাইপর্বে খেলতে হয়নি বাংলাদেশকে। এবার তলানিতে নেমে যাওয়ায় খেলতে হয়েছে প্রাক্‌-বাছাইয়ে। সেই তলানি থেকে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলের জয়ে লাওস-বাধা পার হওয়া ছিল অন্ধকারে একেবারেই হারিয়ে না যাওয়ার স্বস্তি।

মূল বাছাইয়ে এসে ৪ ম্যাচে তিনটি হার, এক ড্র। জয় নেই। তবে স্বস্তি এটাই, খেলার মানে উন্নতির লক্ষণ। যদিও বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে ৪-০ গোলের হার ও এসএ গেমসে ৫ দলের মধ্যে তৃতীয় হওয়ায় সেই উন্নতি নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। বাফুফে ভবনে বসে এসব কিছুকেই ফুটবলের অংশ বলে জানিয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন, ‘অবশ্যই ফুটবলে উত্থান-পতন আছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভারত ও কাতারের বিপক্ষে পারফরম্যান্স যেমন ভালো ছিল, আবার এসএ গেমসে নেমে গিয়েছে। সবকিছু মিলিয়েই ফুটবল। সফলতা থেকে শেখার আছে, ব্যর্থতা থেকেও শেখার আছে।’

বয়সভিত্তিক ফুটবলেও নেই কোনো সাফল্য। অনূর্ধ্ব-১৫ কিশোর সাফ ফুটবলের শিরোপা খোয়াতে হয়েছে। পুরুষ ফুটবলের যখন ত্রাহি অবস্থা, নারী জাতীয় দলের অবস্থা আরও খারাপ। ২০১৭ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০০-তে উঠে এলেও এই বছর ডিসেম্বরে এসে সেটা ১৩০-এ। ২০১৮ সালে সাফে রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশ এই বছর সাফে নেপালের কাছে ৩-০ ও ভারতের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে। জয় শুধু ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলে। বাজে ফলাফলের শঙ্কায় এসএ গেমসে নারী দলই পাঠায়নি বাফুফে।

সাফল্য অবশ্য কিছুটা আছে। ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে রানার্সআপ হয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠে। অবশ্য বছরের প্রথমভাগেই একমাত্র শিরোপাটি জেতে মেয়েরা। সেটি এপ্রিলে ঢাকায় বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে। সেবারও ঝড়বৃষ্টিকে কারণ দেখিয়ে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করেনি বাফুফে। ফলে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও লাওস।

এমন অবস্থায় কীভাবে সফল বলা যায় ২০১৯ সালকে? এটাই জিজ্ঞাসা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম সারওয়ার টিপুর, ‘এটা কীভাবে সফল বছর হয়, বুঝলাম না। বলার জন্যই হয়তো বলা। পুরুষ ফুটবল ১৮৭ র‌্যাঙ্কিং। হারার ভয়ে নারী দলকে এসএ গেমসে পাঠানো হয় না। এরপরও যখন সফল, তখন বুঝতে হবে দেশের ফুটবলের অবস্থা। ভারতের বিপক্ষে একটা ড্র (বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই) ছাড়া আমার চোখে ভালো কিছুই চোখে পড়েনি।’





Source from @ www.prothomalo.com

Leave a Reply